টানা চতুর্থ মাসের মতো আগস্টে জাপান থেকে রফতানি কমেছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত উচ্চশুল্ক দেশটির গাড়ি শিল্পসহ অন্যান্য উৎপাদন খাতে গভীর প্রভাব ফেলে। খবর রয়টার্স।
২০২৪ সালের আগস্টের তুলনায় গত মাসে জাপান থেকে রফতানি কমেছে দশমিক ১ শতাংশ, তবে তা পূর্বাভাসকৃত ১ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। এর আগে জুলাইয়ে রফতানি কমেছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ।
আগস্টে জাপান থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী রফতানি এক বছর আগের তুলনায় কমেছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পতন। এতে প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রেখেছে অটো খাতে ২৮ দশমিক ৪ ও চিপ তৈরির যন্ত্রপাতিতে ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ পতন।
এ রফতানি ধস যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, আগস্টে এর আকার ছিল ৩২ হাজার ৪০০ কোটি ইয়েন বা ২২১ কোটি ডলার।
রফতানির পতন সম্পর্কে মিজুহো রিসার্চের জাপানবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ সাইসুকে সাকাই বলেন, ‘জাপানি গাড়ি নির্মাতারা এখনো মূলত শুল্কের খরচ নিজেদের কাঁধে নিচ্ছে। তারা রফতানি মূল্য কাটছাঁট করে মার্কিন বাজারে বিক্রির পরিমাণ ধরে রাখছে। তবে কেউ কেউ আর বাড়তি খরচ সামলাতে পারছে না। শুল্কের খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দাম বাড়াতে শুরু করেছে তারা।’
তিনি আরো যোগ করেন, মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় শুল্কের প্রভাব জাপানের রফতানি ও উৎপাদনে বছর শেষে আরো তীব্র হবে।
রফতানির মতো গত মাসে জাপানে আমদানিও কমেছে, খাতটি বার্ষিক হারে ৫ দশমিক ২ শতাংশ পতন দেখেছে। আগস্টে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার ২৫০ কোটি ইয়েন বা ১৬৬ কোটি ডলার, যা পূর্বাভাসকৃত ৫১ হাজার ৩৬০ কোটি ইয়েন ঘাটতির তুলনায় কম।
যুক্তরাষ্ট্রমুখী রফতানির ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরে একটি সুখবর পেয়েছে জাপান। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আওতায় প্রায় সব জাপানি আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ গড় শুল্কহার চূড়ান্ত হয়। এর আগে গাড়ির ওপর শুল্ক ছিল ২৭ দশমিক ৫ এবং অন্যান্য বেশির ভাগ পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ছিল। সেপেম্বর থেকে গাড়ি শিল্পে ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে, যদিও তা আগের ২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।